স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিওকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও ৪০ দিন পার হওয়ার পরও ফাইলটিতে এখনো স্বাক্ষর হয়নি, যা শিক্ষক সমাজে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
সরকারের ঘোষণার পর ৩১ জুলাই, এক হাজার ৯০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে এমপিওভুক্ত করার ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এতদিনেও ফাইলটি অনুমোদনের সুইগনেচার পায়নি।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা শনিবারের মধ্যে স্বাক্ষর না হলে রোববার ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব এ কর্মসূচির তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা এমপিওকরণের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছি। ফাইল আটকে থাকায় শিক্ষকরা মারাত্মক উৎকণ্ঠায় আছেন।”
তিনি আরও জানান, ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফাইল অনুমোদন না হলে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহাঅবস্থান কর্মসূচি এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে পেতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। এতে নতুন ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন সরাসরি আপনার ফোন বা কম্পিউটারে পৌঁছাবে।
সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
মাদরাসার এমপিওকরণ ফাইল সইতে দেরি কেন হচ্ছে?
প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দেরি হচ্ছে।
কতগুলো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তির তালিকায় আছে?
মোট ১,০৯০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ফাইলটি কবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে?
গত ৩১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
শিক্ষকরা কেন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন?
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরও ফাইল সই না হওয়ায় তারা মারাত্মক উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
শিক্ষকরা কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন?
তারা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও মহাঅবস্থান পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
যদি দ্রুত সই না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহাঅবস্থানসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের আবেদন কবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে?
আবেদনটি ৮ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া হয়েছিল।
উপসংহার
৪০ দিনে মাদরাসা এমপিওকরণ ফাইল সই না হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরও অনুমোদন বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষকরা আন্দোলন ও কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। এখন সবার দৃষ্টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে—ফাইল অনুমোদন হলে শুধু শিক্ষক নয়, হাজারো পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরে পাবে।
