মাদারীপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছয় বছর আগে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য বসানো বায়োমেট্রিক ডিজিটাল মেশিনগুলো কার্যকর হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্র এখন নষ্টের পথে, যা সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষকরা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব না পেলেও প্রশাসন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থাপন করা এসব মেশিনে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় একদিনও ব্যবহার সম্ভব হয়নি। সদর উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব মেশিন বসানো হয়েছিল। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কিছু বিদ্যালয়ে একইভাবে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি মেশিনের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা, যা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কেনা হয়। তবে কোম্পানি বসানোর পর কোনো খোঁজ রাখেনি। ফলশ্রুতিতে, মেশিনগুলো বছরের পর বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, কোথাও কোথাও মেশিন হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার চরমুগরিয়া, পৌর এলাকা ও অন্যান্য বিদ্যালয়ে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার জানান, মেশিন বসানো হলেও একদিনও ব্যবহার হয়নি। ছয় বছর ধরে মেশিনগুলো স্কুলের দেয়ালে পড়ে আছে।
কিছু শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। লাখ লাখ টাকা খরচ হলেও শিক্ষার কোনো উন্নতি হয়নি। মেশিনগুলো চালু থাকলে শিক্ষকদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমারত হোসেন বলেন, মেশিনগুলো কেন ব্যবহার হচ্ছে না তা তার জানা নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো নথি দেখে বিস্তারিত জানা যাবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, মেশিন কেনার সময় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করতে এগুলো সরকারের ভালো উদ্যোগ ছিল। প্রয়োজনে পুনরায় চালুর দিকেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
এই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনগুলো কখন বসানো হয়েছিল?
২০১৮-১৯ অর্থবছরে সদর উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য এই মেশিনগুলো স্থাপন করা হয়েছিল।
কেন মেশিনগুলো ব্যবহার হয়নি?
মেশিনগুলিতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে একদিনও সঠিকভাবে ব্যবহার সম্ভব হয়নি।
মেশিনগুলো কত খরচে কেনা হয়েছিল?
প্রতিটি মেশিন প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কেনা হয়।
মেশিনগুলোর বর্তমান অবস্থা কী?
বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, কোথাও কোথাও হারিয়ে গেছে।
মেশিনগুলো কার্যকর হলে কী সুবিধা হতো?
মেশিনগুলো চালু থাকলে শিক্ষকদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো এবং বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেত।
শিক্ষকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে কী বলেছেন?
কিছু শিক্ষক অভিযোগ করেছেন যে, বিদ্যালয় উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে এবং শিক্ষার কোনো উন্নতি হয়নি।
প্রশাসন কি কোনো ব্যবস্থা নেবে?
উপজেলা প্রশাসন পুনরায় মেশিন চালু করার এবং সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
উপসংহার
মাদারীপুরের ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন দীর্ঘ ছয় বছর ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। মেশিনগুলোর কার্যকরী না থাকার কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হয়েছে এবং শিক্ষকদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন অবশ্য পুনরায় মেশিন চালুর এবং সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
