সমমর্যাদার সরকারি কর্মচারী ও পিটিআই পরীক্ষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন এখনো ১০ম গ্রেডে। অথচ কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে নয়? প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা, সচিব, মহাপরিচালকসহ সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের যৌক্তিকতার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
তবুও প্রাথমিক শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে ১০ম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সবাই মুখে সমর্থন জানালেও বাস্তবে সেই সমর্থন কার্যকর হচ্ছে না।
কতিপয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ১০ম গ্রেডের দাবি যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয়। এটি শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়। শিক্ষকদের যত দ্রুত সম্ভব তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা উচিত, যেন তারা আগামী প্রজন্মকে ১ম শ্রেণির নাগরিকের স্বপ্ন দেখাতে পারে। তৃতীয় ও দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে তা সম্ভব নয়।
এতোদিন মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের নির্দেশ দেখিয়েছে, মানে বিষয়টি আপিল বিভাগের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। প্রাথমিক শিক্ষার মন্ত্রণালয় এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে অবস্থার নিরবচ্ছিন্নতা ছিল, তা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও অবিকল বজায় রয়েছে।
উপসংহার
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের দাবি যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী। বছরের পর বছর তাদের আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, তারা তৃতীয় ও দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা থেকে দ্রুত প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার যোগ্য। প্রশাসনিক উচ্চপদস্থরা বিষয়টি সমর্থন জানালেও কার্যকর বাস্তবায়ন এখনও অসম্পূর্ণ। শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও মানসম্পন্ন সেবার উন্নতি প্রভাবিত হবে। তাই প্রাথমিক শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা অপরিহার্য এবং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
