নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অধ্যক্ষের কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় নওগাঁ সরকারি কলেজে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হকের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি সাংবাদিক পরিচয়ে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন—
- অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদককে দ্রুত অপসারণ ও বদলি করতে হবে।
- কলেজে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনার তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে হবে।
- কলেজ প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
- শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নিরপেক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল গঠন করতে হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জানান, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কলেজে বিশৃঙ্খলা চলছে। ফি বাড়ানোর প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। তাই দ্রুত অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি জানান তারা।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ সামসুল হক, উপাধ্যক্ষ এসএম মোজাফফর হোসেন ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিদ্যুৎ দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের মাধ্যমে কলেজে বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেন কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং দ্রুত অপসারণ করে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
নওগাঁ সরকারি কলেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল ঘটনায় আসল বিষয়টি কী?
নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার পর কলেজে উত্তেজনা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেন।
কোন তিনজন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে?
অধ্যক্ষ সামসুল হক, উপাধ্যক্ষ এসএম মোজাফফর হোসেন এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিদ্যুৎ।
শিক্ষার্থীরা কেন পদত্যাগ দাবি করছেন?
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার লঙ্ঘন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তারা পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা কী কী দাবি তুলেছেন?
তিন শিক্ষককে অপসারণ ও বদলি, কলেজের অব্যবস্থাপনার তদন্ত, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, প্রশাসনে স্বচ্ছতা–জবাবদিহিতা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল গঠন।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কী?
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষক মিলে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।
ঘটনার পর অধ্যক্ষ কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন?
অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বার্তার উত্তর দেননি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কতদিন চলবে?
তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
উপসংহার
নওগাঁ সরকারি কলেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের পদত্যাগ দাবি থেকে স্পষ্ট, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ চায়। এই ধরনের ঘটনার দ্রুত ও সঠিক সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হবে এবং শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এখন দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের—তারা কি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন, নাকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল হতে দেবেন, সেটাই সময় বলে দেবে।
