বাংলাদেশের সরকারি স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা ২০২৫ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি শ্রেণি শাখায় সর্বাধিক ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবেদনকারীরা সর্বাধিক পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে দিতে পারবে। যদি কোনো বিদ্যালয় ডাবল শিফটে পরিচালিত হয়, তবে উভয় শিফটে আবেদন করা হলে তা দুইটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পছন্দ করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এই নীতিমালা গত বৃহস্পতিবার জারি হয়েছে এবং স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীন।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০’ অনুসারে। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছরের বেশি হতে হবে, তবে শিক্ষাবর্ষ ১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় বয়সসীমা ধরা হয়েছে ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীর জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ১ ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে হতে হবে। বয়স যাচাইয়ের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বয়স ছাড় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শ্রেণিতে বয়স নির্ধারণ প্রথম শ্রেণির ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য হবে।
ভর্তির ক্ষেত্রে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিভিত্তিকভাবে প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশিত হবে এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় তালিকাও তৈরি করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নাম সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত হবে। কোনো অবস্থাতেই তালিকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।
ঢাকা মহানগরের ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগের মতো তিনটি গ্রুপে থাকবে। প্রতিটি বিদ্যালয় সর্বাধিক তিনটি থানাকে ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবে। ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০% কোটা বজায় থাকবে।
ভর্তির কোটায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫%, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২%, এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণির কোটা ১০% অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মোট ১% কোটা দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে; মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫% এবং অধীন দপ্তরের জন্য ০.৫%। যমজ কোটা ৩% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে, আর সহোদর কোটা ২% থেকে ৩% বৃদ্ধি করা হয়েছে। উভয় কোটা সর্বোচ্চ এক দম্পতির তিন সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শূন্য আসন কোনো অবস্থায় রাখা যাবে না, এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আসনও অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশের সরকারি স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা ২০২৫ শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও সুবিন্যস্ত ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতি শ্রেণি শাখায় সর্বাধিক ৫৫ জন শিক্ষার্থী, বয়সসীমা নিয়ম, অপেক্ষমাণ তালিকা, এবং কোটা প্রণালী শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া সুবিধা শিক্ষাক্ষেত্রে সমতার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। এই নীতিমালা অনুসরণ করলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমবে এবং স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
