শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সুযোগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। নোনাজলে বাঁধভাঙা আনন্দে ভ্রমণপ্রেমীরা সাগরে মেতে উঠেছেন।
সরকারি ছুটি ১ ও ২ অক্টোবর। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরাও চার দিনের বিশ্রাম পাচ্ছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দীর্ঘ ছুটির সুযোগে পর্যটকের ঢল শুরুতেই কক্সবাজারকে মাতাবে।
হোটেল মালিকদের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছেন। শুক্রবার থেকে ভিড় আরও বেড়েছে। ট্রিপজোন ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিকু পাল জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের কক্ষ শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে অধিকাংশ কক্ষে ৩৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
প্রবাল টুরিজমের পরিচালক সাইফুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দৈনিক লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, শহর, মেরিন ড্রাইভ ও আশপাশের এলাকায় ১ লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। পর্যটন মৌসুম শুরুতেই আশানুরূপ সাড়া পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট।
আরও পড়ুন: বৃদ্ধের চুল জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের
কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা সৈকতে শুক্রবার থেকে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই মেরিন ড্রাইভ হয়ে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী ও টেকনাফের সৈকতে ঘুরতে যাচ্ছেন।
বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি আছে। সুগন্ধা ও লাবণী সৈকতে দেখা গেছে, উত্তাল সাগরের ঢেউ সৈকতে আছড়ে পড়ছে। তবু নানা বয়সের পর্যটক সাগরে গোসলে নামছেন। লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা পর্যটকদের সতর্ক করছেন।
নড়াইল থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা শামীম আজাদ বলেছেন, স্কুলের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন। সিলেটের ব্যবসায়ী সুমন চৌধুরীও স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সৈকত ছাড়া সন্ধ্যার পর বিনোদনের সুযোগ সীমিত।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
নতুন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকের সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৪ জোড়া ‘পূজা স্পেশাল’ ট্রেন চালাবে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৩ জোড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ১ জোড়া ট্রেন চলবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
কবে থেকে কবে পর্যন্ত কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে?
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘ ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে সৈকতে মানুষ উপচেপড়া ভিড় করছেন।
এই পর্যটক ভিড় কিসের কারণে হয়েছে?
শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি, সরকারি-বেসরকারি অফিসের চার দিনের ছুটি এবং পর্যটনের মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে।
কক্সবাজারে পর্যটকেরা কোন কোন স্থানে বেশি সমাগম করছেন?
কলাতলী, লাবণী, সুগন্ধা পয়েন্ট ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ হয়ে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী ও টেকনাফের সৈকতে পর্যটকরা ভ্রমণ করছেন।
হোটেল ও রিসোর্টে কেমন বুকিং চলছে?
হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কিছু কক্ষে ৩৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রের পানি কি ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ?
বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। তাই লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মানা জরুরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল পতাকা দেখা গেলে সেখানেই গোসলে নামা উচিত নয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তা কে দেখছে?
টুরিস্ট পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং লাইফগার্ডরা পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
পর্যটকরা কতোদিনের জন্য কক্সবাজারে আসছেন?
ছুটি অনুযায়ী অনেক পর্যটক ২–৪ দিনের জন্য বেড়াতে আসছেন। কেউ পরিবারসহ দিনব্যাপী এবং কেউ এক বা দুই রাত থাকার জন্য ভ্রমণ করছেন।
উপসংহার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার দীর্ঘ ছুটির সুযোগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের শতভাগ কক্ষ বুকিং এবং সৈকতে উপচে পড়া ভিড় পর্যটনের মৌসুম শুরুতেই কক্সবাজারকে ব্যস্ত করে তুলেছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, ট্রেন পরিষেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পর্যটকেরা নিরাপদে এবং আনন্দের সঙ্গে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারছেন। আগামী দিনগুলোতে কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টরে আরও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
