২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষা কোটায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভূতপূর্ব জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। মূল কোটা সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ নির্ধারিত থাকে। কিন্তু এবার এই কোটা অতিক্রম করে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী ভুয়া সনদপত্র দেখিয়ে পছন্দের কলেজে ভর্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে একাদশ শ্রেণির ক্লাসও শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রোববার শিক্ষা কোটার প্রযোজ্যতা স্থগিত করেছে। বোর্ড জানিয়েছে, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা কোটার নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষা কোটা-১ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য এবং শিক্ষা কোটা-২ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দপ্তর, সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত। তবুও এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ২,৭৭৭ জন শিক্ষার্থী, যেখানে প্রকৃত কোটা প্রাপ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০। প্রশ্ন উঠেছে, বাকি হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কোথা থেকে এসেছে।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিমা প্রতিষ্ঠানের সন্তানরাও ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে ভর্তি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশে এই ভর্তি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভর্তি কমিটির কর্মকর্তা ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক রিজাউল হক বলেন, কোটা-অনিয়মের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তি হচ্ছে না, এবং এর স্থায়ী সমাধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
ঢাকা বোর্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে সরকারি স্কুল ও কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত কোটায় ভর্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে শিক্ষা কোটা-১ ও শিক্ষা কোটা-২-এর ইতিমধ্যেই ভর্তি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বহাল থাকবে।
চূড়ান্তভাবে, শিক্ষা কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৩৭১, যার মধ্যে শিক্ষা কোটা-১-এ ২,০৭৭ জন এবং শিক্ষা কোটা-২-এ ১,২৯৪ জন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
শিক্ষা কোটা কী?
শিক্ষা কোটা হলো সরকারীভাবে নির্ধারিত অংশ, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের জন্য কলেজে ভর্তি সুবিধা দেয়।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কী ধরনের জালিয়াতি হয়েছে?
শত শত শিক্ষার্থী ভুয়া সনদপত্র ব্যবহার করে কোটা সুবিধা নিয়ে পছন্দের কলেজে ভর্তি হয়েছে।
কোটার আসল উদ্দেশ্য কী?
কোটার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
কত শতাংশ শিক্ষার্থী কোটা অনুযায়ী ভর্তি হয়?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করেছে—১% শিক্ষা কোটা-১ এবং ১% শিক্ষা কোটা-২।
কেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও কোটা ভাঙার সুযোগ পেয়েছে?
কিছু শিক্ষার্থী ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশে ভর্তি হয়েছে।
হাইকোর্ট কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ মেনে সরকারি স্কুল ও কলেজের কর্মচারীদের সন্তানের জন্য নির্ধারিত কোটায় ভর্তি স্থগিত করেছে।
উপসংহার
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কোটায় কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে অভূতপূর্ব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, তা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। ভুয়া সনদপত্র এবং কিছু ক্ষেত্রে কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার সুযোগ নিয়েছে, যার ফলে প্রকৃত কোটা প্রাপ্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সমস্যা দূর করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কোটার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গঠন করতে হবে। শুধুমাত্র তবেই কোটা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য—প্রাপ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা—সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
