শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, জাতীয়করণ একটি জটিল বিষয় এবং এটি ইন্টেরিম সরকার করতে পারবে না। জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারই নেবে। এছাড়া শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিগুলোও সরকার বিবেচনা করবে।
বুধবার বিকেলে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয়করণ প্রত্যাশী শিক্ষকদের প্রতিনিধিদল এই তথ্য ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে।
বৈঠকে সরকার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব ১ হাজার টাকা দিয়েছে, কিন্তু শিক্ষকরা দাবী করেছেন ২০ শতাংশ হারে বাড়ানো হোক। শিক্ষকদের কাছে বলা হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে তাদের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এগুলো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তারা কঠোর কর্মসূচি শুরু করবেন।
এর আগে জাতীয়করণ প্রত্যাশীদের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং উপসচিব এম জেড মোর্শেদ বৈঠক করেন।
প্রতিনিধিদল: ১০ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত। এতে ছিলেন অধ্যক্ষ মাইনুদ্দীন আহমেদ, অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজি, মো. রফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মো. আবু তালেব সোহাগ, আবুল বাশার, শান্ত ইসলাম, মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাবিবুল্লাহ রাজু। পুলিশকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে তারা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান।
সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ শুরু হয়। ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশের ৬৪ জেলা থেকে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।
মহাসমাবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি বিভাগে ৮ জন সমন্বয়ক ও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়করা নিয়োগ করা হয়েছে। বাস রিজার্ভসহ আগেভাগেই শিক্ষকদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহাসমাবেশে শিক্ষকরা জাতীয়করণ, ভাতা বৃদ্ধিসহ সব দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। পূর্ববর্তী সরকার বারবার আলোচনা, টেবিল কনফারেন্স, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এবার দেশের ৬৪ জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ঢাকায় মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন।
শিক্ষা ও অন্যান্য খবর সবার আগে জানতে, দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
শিক্ষা উপদেষ্টা আন্দোলনরত শিক্ষকদের কি বললেন?
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, জাতীয়করণ নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত, ইন্টেরিম সরকার এটি করতে পারবে না। এছাড়া শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিগুলোও সরকার বিবেচনা করবে।
জাতীয়করণ কবে করা হবে?
জাতীয়করণ প্রক্রিয়া নির্বাচিত সরকারের সময়ে সম্পন্ন হবে। ইন্টেরিম সরকার এটি কার্যকর করতে পারবে না।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?
সরকার বাড়ি ভাড়া ১ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে শিক্ষকরা দাবি করেছেন ২০ শতাংশ হারে বাড়ানো হোক। প্রস্তাবনা দু-এক দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি কী কী?
শিক্ষকরা জাতীয়করণ, ভাতা বৃদ্ধি, অন্যান্য সুবিধাসহ সব দাবি সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন। শিক্ষামন্ত্রণালয় পরে এগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে।
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ কী?
১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কঠোর কর্মসূচি শুরু হবে।
মহাসমাবেশ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
মহাসমাবেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের ৬৪ জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেছেন।
সমাবেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
মহাসমাবেশে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি বিভাগে ৮ জন সমন্বয়ক, জেলা ও উপজেলার পর্যায়ে সমন্বয়ক নিয়োগ করা হয়েছে। বাস রিজার্ভসহ আগেভাগেই শিক্ষকদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপসংহার
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে যে, জাতীয়করণ শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তে সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিও সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। দেশের ৬৪ জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন এবং তাদের ভাতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুবিধা আদায়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
