নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এমপি প্রার্থী হতে পারবেন না।
জানা গেছে, এ সংক্রান্ত সংশোধনী নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ চূড়ান্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রার্থী হতে হলে জামানত ৫০ হাজার টাকা, এবং ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করার অনুমতি থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে সংশোধনী গেজেট করা হবে। এছাড়া মনোনয়নপত্র অনলাইনে নয়, সরাসরি রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে, এবং জমা দেওয়ার পর রশিদ প্রদান করা হবে।
- রিডও: উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করতে প্রতারণার নতুন ফাঁদ, সতর্ক করল অধিদপ্তর
- হোম পেজে যান: dainikshiksha
ইসি আরও জানিয়েছেন, প্রার্থীকে সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্ন, সম্পদের বিবরণ ও আয়ের উৎস দাখিল করতে হবে। সংশোধনিতে সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা ভোটের হার বাড়ানোর পাশাপাশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে।
এছাড়া একক প্রার্থীর আসনে ‘না’ ভোটের বিধান থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। একক প্রার্থী ‘না’ ভোটে হেরে গেলে পুনঃনির্বাচন হবে।
আগে দ্বিমত প্রকাশ করলেও, কেন এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছে। আলোচনার পর কমিশন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং মনে করেছে, এমন বিধান রাখা উচিত। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সংশোধনী আবার পরিবর্তন করা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব ছিল সংস্কার কমিশনের, তবে এটি ইসির প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা এমপি প্রার্থী হতে পারবেন না?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পড়তে পারে এবং শিক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তাই এই বিধান রাখা হয়েছে।
এই নিয়ম কোন আইন বা অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত?
এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত।
প্রার্থী হতে হলে কী ধরনের শর্ত মানতে হবে?
প্রার্থীকে জামানত ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে এবং ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করার সীমা রয়েছে।
মনোনয়নপত্র কীভাবে জমা দিতে হবে?
মনোনয়নপত্র অনলাইনে নয়, সরাসরি রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার পর প্রার্থীকে রশিদ প্রদান করা হবে।
প্রার্থীকে আর কি ধরনের তথ্য দাখিল করতে হবে?
প্রার্থীকে সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্ন, সম্পদের বিবরণ এবং আয়ের উৎস দাখিল করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীরা কীভাবে ভোট দিতে পারবে?
সংশোধনিতে সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
একক প্রার্থীর আসনে কী হবে?
একক প্রার্থীর আসনে ‘না’ ভোটের বিধান থাকায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হবে না। একক প্রার্থী ‘না’ ভোটে হেরে গেলে পুনঃনির্বাচন হবে।
উপসংহার
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা এমপি প্রার্থী হতে পারবেন না—এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী প্রার্থীদের জন্য নতুন শর্তাবলী, যেমন জামানত, ট্যাক্স রিটার্ন, সম্পদের বিবরণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা, ভোটের স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে।
