বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির প্রতিফলন হিসেবে তারা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
রোববার, ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে শাহবাগ থেকে এ ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। তারা জানিয়েছেন যে, রাজধানীর ইস্কাটনে এনটিআরসিএ কার্যালয় ঘেরাও করার মাধ্যমে তারা তাদের দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
- ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা।
- নীতিমালা পরিবর্তনের আগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা।
- প্রাতিষ্ঠানিক বাধা সরিয়ে ১৬,২১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ নিশ্চিত করা।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনধারীরা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অনেক প্রার্থী সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে তারা মানসিক চাপ, হতাশা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন। তাদের দাবি, অনেক যোগ্য প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ফলাফল:
- ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
- ১৮,৬৫,৭১৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৪,৭৯,৯১১ জন।
- লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৮৩,৮৬৫ জন।
- সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় ৬০,৫২১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
অর্থাৎ, বর্তমানে উপস্থিত প্রার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষাদান করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক যাচাইকৃত যোগ্য শিক্ষক।
সুপারিশ বঞ্চনার পরিস্থিতি:
- ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ লাখের বেশি পদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
- প্রায় ৬০,০০০ শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬,২১৩ জন প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হন।
- সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীরা হতাশা, মানসিক চাপ ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার।
আগামী কর্মসূচি ও দাবিসমূহ:
- ঘোষণা হয়েছে যে ১৯তম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পরিবর্তিত পদ্ধতিতে হবে।
- ১৮তম সকল নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশ নিশ্চিত করার পর ১৯তম সার্কুলার প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে প্রার্থীরা তাদের সুপারিশ নিশ্চিত করতে পারবেন।
শিক্ষা সংক্রান্ত সব খবর জানতে:
দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। বেল বাটন ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ভিডিও নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে।
সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
কেন শিক্ষক পদে সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীরা এনটিআরসিএ ঘেরাও করছেন?
প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও তারা সুপারিশ থেকে বঞ্চিত, যা তাদের মানসিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। তারা তাদের দাবির জন্য ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
ঘেরাও কর্মসূচি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
ঘেরাও কর্মসূচি রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় এনটিআরসিএ কার্যালয় ঘিরে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষকের সংকট পূরণের জন্য গত কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল?
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে ১৮,৬৫,৭১৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত হন।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফলের পরিস্থিতি কী ছিল?
১ লাখের বেশি পদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হন। প্রায় ৬০,০০০ শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও ১৬,২১৩ জন প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হন।
প্রার্থীরা ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে কি চান?
প্রার্থীরা নিয়োগ বঞ্চিতদের সুপারিশ নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দাবি আদায় করতে চাইছেন।
১৯তম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে?
ঘোষণা অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পরিবর্তিত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮তম সকল নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশ নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন সার্কুলার প্রকাশ করা হবে।
সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীরা কেমন সমস্যার সম্মুখীন?
সুপারিশ না পাওয়ায় প্রার্থীরা হতাশা, মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন।
উপসংহার
শিক্ষক পদে সুপারিশ বঞ্চিত প্রার্থীদের ঘেরাও কর্মসূচি শুধু তাদের দাবির প্রতিফলন নয়, এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রার্থীরা decades of preparation ও উচ্চ মেধার পরও সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ যদি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং সকল নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশ নিশ্চিত করে, তবে এটি শুধু প্রার্থীদের জন্য নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
