ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, শিক্ষকতায় মেধাবীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা না থাকলে দেশে মেধাবী তৈরি হবে না।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি লেখেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেসব কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে, তাদের জন্য এখনই একটি যোগ্য শিক্ষক হান্ট প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া উচিত। তাঁর প্রস্তাব, যেসব প্রার্থীর ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং ১ থেকে ৬০০-এর মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি আছে, তাদের সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া যাদের পিএইচডির পাশাপাশি পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতা আছে, সেই বছরগুলিকে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রযোজ্য পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন, ন্যূনতম যোগ্যতার চেয়ে বেশি যোগ্যতা থাকলে ইনক্রিমেন্ট ও গবেষণার জন্য সিড মানি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক মামুন আরও বলেন, একই ধরনের উদ্যোগ ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজের ক্ষেত্রেও নেওয়া উচিত ছিল। এতদিনেও কেন তা হয়নি, এ নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, “ছাত্ররা যদি দেখে প্রশাসন শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে কাজ করছে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। শিক্ষকতায় মেধাবীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা না থাকলে দেশে মেধাবী তৈরি হবে না।”
শিক্ষা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত থাকুন। ভিডিওগুলো মিস না করতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন—তাহলেই নতুন ভিডিওর নোটিফিকেশন আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে পৌঁছে যাবে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
শিক্ষকতার মূল্যায়ন বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে?
মূল্যায়ন বলতে বোঝানো হয়েছে শিক্ষকতার মান, গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষকের দক্ষতার সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও স্বীকৃতি দেওয়া।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়াতে অধ্যাপক মামুন কী প্রস্তাব দিয়েছেন?
তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা ব্যক্তিদের সরাসরি সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হোক এবং অধিক যোগ্যদের ইনক্রিমেন্ট ও গবেষণা তহবিল প্রদান করা হোক।
পিএইচডি ও পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপক মামুন?
তিনি বলেছেন, যাদের পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সেই বছরগুলো শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা উচিত। এতে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ সহজ হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজ নিয়ে অধ্যাপক মামুন কী মন্তব্য করেছেন?
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, এত বছরেও সাত কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষকতার মানোন্নয়ন কেন জরুরি বলে মনে করেন অধ্যাপক মামুন?
কারণ শিক্ষকতার মান যত ভালো হবে, ততই শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হবে এবং দেশ মেধাবী নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে।
শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হলে এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে?
এটি শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মনোভাব তৈরি করবে, যা জাতীয়ভাবে শিক্ষার মান উন্নত করবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অধ্যাপক মামুন কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, যদি ছাত্ররা দেখে প্রশাসন শিক্ষার মান বাড়াতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে, তবে পুরো পরিবেশই বদলে যাবে।
উপসংহার
অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুনের বক্তব্য আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় এক গভীর বাস্তবতার প্রতিফলন। তিনি যেভাবে শিক্ষকতায় মূল্যায়নের অভাবকে দেশের মেধাবী তৈরির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তা শুধুমাত্র একটি মতামত নয়—এটি শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
