ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া এ কম্পনে সারাদেশে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
রাজধানীতে নিহত ৩
পুরান ঢাকার বংশালে একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন পথচারী নিহত হন। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। তবে এখনো কারও পরিচয় জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জে নিহত ২
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূমিকম্পে একটি দেয়াল ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়; আহত হন তার মেয়ে। একই উপজেলায় টিনসেড বাড়ির দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
নরসিংদীতে নিহত ২
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। সদর উপজেলার গাবতলীতে বাড়ির সানসেট ভেঙে ওমর (১০) নামে এক শিশু নিহত হয় এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জল গুরুতর আহত হন।
একই উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির দেওয়াল ধসে কাজম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। ছাদের রেলিং ভেঙে একইসঙ্গে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
উপসংহার
৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি অল্প সময়ের জন্য হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। ঢাকাসহ তিন জেলায় সাতজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবন ও দেয়াল ধসে প্রাণহানি দেখিয়েছে যে ভূমিকম্প মোকাবিলায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগে ক্ষতি কমাতে পরিকল্পনা, সচেতনতা ও দৃঢ় অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
