সারাদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বৃহৎ জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।
তিন দফা দাবিতে— বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, শিক্ষা জাতীয়করণ, ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ— তারা যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা স্থগিত করে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে শহীদ মিনারে আন্দোলনরত অবস্থায় এই ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব আজিজী এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
তিনি বলেন,
“পদযাত্রা আপাতত স্থগিত করা হলেও সারাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।”
শিক্ষক নেতারা জানান, বৃহস্পতিবার তারা অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠক করলেও তাতে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত আসেনি। দিনভর শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনের পটভূমি
গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বাড়িভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করলে শিক্ষক সমাজ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন শুরু করে।
এরপর ১৩ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৫ অক্টোবর শাহবাগ মোড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে বৃহস্পতিবারের পদযাত্রা স্থগিত করার ঘোষণাও আসে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর।
অধ্যক্ষ আজিজী জানান,
“রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ এসেছে—যমুনার দিকে পদযাত্রা করলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। তাই আমরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করেছি। সরকারকে চাপ দিতে রাজনৈতিক মহলও উদ্যোগ নিচ্ছে।”
নতুন কর্মসূচি
তিনি ঘোষণা দেন,
“আমরা ২৪ ঘণ্টা লাগাতার অবস্থান বজায় রাখব এবং শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে অনশন শুরু করব। সরকারের সাড়া না পেলে আমরা আমরণ অনশনে যাব।”
তিনি আরও বলেন,
“যদি সরকারের দয়া বা সাড়া না আসে, আমরা এখানেই মৃত্যুবরণ করব। ক্লাস বন্ধ থাকবেই, রোববার থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
পটভূমি সংক্ষেপে
- দাবি: ২০% বাড়িভাড়া, শিক্ষা জাতীয়করণ, ন্যায্য সুবিধা
- বর্তমান অবস্থা: অনশন কর্মসূচি চলছে
- পরবর্তী ধাপ: আমরণ অনশন
- অংশগ্রহণকারী: প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
রোববারের এমপিও শিক্ষকদের মহাসমাবেশ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একত্রিত হবেন।
এই মহাসমাবেশের উদ্দেশ্য কী?
শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া সংযোজন এবং শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে সচেতনতা ও চাপ সৃষ্টি করাই এই মহাসমাবেশের মূল উদ্দেশ্য।
মহাসমাবেশে কতজন শিক্ষক-কর্মচারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে?
প্রায় ৬ লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন?
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী, যিনি শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব।
শিক্ষকরা কেন পদযাত্রা স্থগিত করেছেন?
রাজনৈতিক দলের অনুরোধে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে কি?
না, সারাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
শিক্ষকরা কখন থেকে অনশন শুরু করেছেন?
শিক্ষকরা শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে লাগাতার অনশন শুরু করেছেন, যা এখনো চলছে।
উপসংহার
রোববারের সারাদেশব্যাপী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মহাসমাবেশ বাংলাদেশের শিক্ষা অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, বেতন বৈষম্য ও সুবিধাবঞ্চনার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাদের দাবি— ২০% বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, শিক্ষা জাতীয়করণ, ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ— কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
