বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়, গত বছরের ৪ আগস্ট লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয় ল্যাব সহকারী (রসায়ন) পদে নিয়োগ পরীক্ষা। কয়েকদিন পর আয়েশা সিদ্দিকা নামের এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে একের পর এক জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনা।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সই জাল
পরীক্ষার ফলাফলে মাউশি মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও ইউএনওর সই দেখানো হলেও দুজনেই দাবি করেছেন সইগুলো জাল। এমনকি প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি বহু বছর কলেজে যাননি, অথচ তার সই ব্যবহার করা হয়েছে।
মেয়ে-ভাতিজার বিশেষ সুবিধা
নিয়োগ পাওয়া আয়েশা সিদ্দিকা হচ্ছেন মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আমির আলীর মেয়ে। একই কলেজের বিজ্ঞান ল্যাবে সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান তার ভাতিজা শাহিন আলম। অভিযোগ রয়েছে—ইনডেক্স দেওয়ার বিনিময়ে এই নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে।
কলেজে অনিয়মের চিত্র
- কলেজে ১১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও গত বছর মাত্র ১৫ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং পাস করে মাত্র ৩ জন।
- বিভিন্ন প্রার্থী ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা নিয়ে নিয়োগ ও ইনডেক্স করা হয়।
- ইউএনও শামীম মিঞা জানিয়েছেন, তার সই স্ক্যান করে ভুয়া ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বায়োটেকনোলজি নির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে বাংলাদেশের পথচলা – শিক্ষা উপদেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক যোগসাজশ
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছেন আলী জামায়াতে ইসলামের স্থানীয় নেতা। কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য ও জালিয়াতির ঘটনায় তাকে দল থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত দাবি
এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
মাউশি অধিদপ্তর কর্মকর্তার মেয়ের কলেজে নিয়োগে কী ধরনের জালিয়াতি হয়েছে?
নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজি প্রতিনিধি, ইউএনও এবং কয়েকজন প্রভাষকের সই জাল করে ভুয়া ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কোন কলেজে এই জালিয়াতি ঘটেছে?
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি ঘটে।
কারা নিয়োগ পেয়েছে এই জালিয়াতির মাধ্যমে?
ল্যাব সহকারী (রসায়ন) পদে অধ্যাপক আমির আলীর মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এবং বিজ্ঞান ল্যাবে তার ভাতিজা শাহিন আলম নিয়োগ পান।
সই জাল করার অভিযোগে কাদের নাম উঠে এসেছে?
মাউশির ডিজি প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম ও ইউএনওর সই জাল করার অভিযোগ উঠে এসেছে।
কলেজের বর্তমান একাডেমিক অবস্থা কেমন?
কলেজে ১১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও গত বছর মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পাস করেন মাত্র ৩ জন।
মাউশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা ইনডেক্স দেওয়ার বিনিময়ে তার মেয়ে ও ভাতিজাকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন।
কলেজের কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী বলেছে?
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছেন আলী জালিয়াতির দায় অস্বীকার করে দোষ চাপিয়েছেন অফিস সহকারীর ওপর।
উপসংহার
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজে মাউশি অধিদপ্তর কর্মকর্তার মেয়ের নিয়োগ কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। সই জালিয়াতি, ইনডেক্স বাণিজ্য এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার ঘটনা শিক্ষার্থীদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একদিকে কলেজে শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও শিক্ষার মান নিম্নগামী, অন্যদিকে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
