রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. আবু সুফিয়ানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছেন।
শোকজে পুলিশ কমিশনারকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৩ নভেম্বর মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় হামলা চালিয়ে তার ছেলে তাওসিফ রহমানকে (সুমন) ছুরিকাঘাত করে হত্যা এবং স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত লিমন মিডিয়ার সামনে ভিকটিমকে দোষারোপ করে বক্তব্য প্রদান করেন, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কেন আরএমপি কমিশনার মো. আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ১৯ নভেম্বরের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে।
এর আগে ১৪ নভেম্বর বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার ভাড়া বাসায় হামলার ফলে বিচারকের ছেলে তাওসিফ নিহত হন এবং তার মা তাসমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হামলাকারী লিমন পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন।
ভবনের দারোয়ান মেসের আলীর বরাত দিয়ে জানা যায়, লিমনকে আগে কখনো দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি বাসায় ঢুকতে দেন, তবে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখিয়ে নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে লিমন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ৩০ মিনিট পর গৃহকর্মী তাকে সতর্ক করে যে ফ্ল্যাটে হামলা হয়েছে। পরে অন্যান্য বাসিন্দারা এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
উপসংহার
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবু সুফিয়ানের শোকজ প্রদানের ঘটনা সুস্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে আইন ও আদালতের নির্দেশনার অমান্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় মিডিয়ার সামনে ভিকটিমকে দোষারোপ করার সুযোগ দেওয়া নিয়ে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ১৯ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আদালতের নজরদারির গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
