বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ না পেয়ে নিবন্ধিত প্রার্থীরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন, বোরাক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন করে তারা এই দাবি প্রকাশ করেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ পরীক্ষা প্রক্রিয়া অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ৬০ হাজারের বেশি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া এক আবেদনে প্রার্থীরা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৬০,৫২১ জনকে চূড়ান্তভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ১৯ আগস্ট প্রকাশিত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে লক্ষাধিক পদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭ জনকে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ১৫,০০০ প্রার্থী নিয়োগের বাইরে থেকে যান।
প্রার্থীরা বলেন, যেখানে এখনও ৬০ হাজারের বেশি পদ শূন্য, সেখানে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ না পাওয়া অন্যায় এবং অযৌক্তিক। ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য এনটিআরসিএ ১৫,০০০-এরও বেশি প্রার্থীকে নিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
তারা দাবি করেন, এবারের ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ বঞ্চিত প্রার্থীদের জন্যও বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ করলে শিক্ষক সংকট নিরসন হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে।
প্রার্থীদের দুইটি মূল দাবি:
- ১৮তম নিবন্ধনে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কিন্তু নিয়োগ থেকে বঞ্চিত প্রায় ১৫,০০০ প্রার্থীকে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় নিয়োগ দিতে হবে।
- নীতিমালা পরিবর্তনের আগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ, নিয়োগ-বঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি কী?
বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি হলো একটি নোটিশ বা ঘোষণা, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রকাশ করা হয়।
কেন প্রার্থীরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির দাবি করছেন?
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৫,০০০ প্রার্থী ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ না পাওয়ায় তারা এই দাবি জানিয়েছেন।
এনটিআরসিএ-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রক্রিয়া কীভাবে হয়?
প্রার্থীরা প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নীতিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
কতজন প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন?
ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে লক্ষাধিক পদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭ জনকে সুপারিশ দেওয়ায় প্রায় ১৫,০০০ প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে শিক্ষার পরিবেশে কী প্রভাব পড়বে?
নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট নিরসন হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নত হবে।
২০২২ সালে পূর্বে কোনো বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি হয়েছিল কি?
হ্যাঁ, ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএ শিক্ষক সংকট নিরসনে ১৫,০০০-এরও বেশি প্রার্থীকে নিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
প্রার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কী দাবি জানান?
মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রার্থীরা এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বরাবর দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
উপসংহার
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি প্রমাণ করে যে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ করলে শিক্ষক সংকট নিরসন হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নত হবে। এনটিআরসিএ-এর উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে প্রার্থীরা তাদের অধিকার পায় এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়।