জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনা দেশে কম নয়। কখনও কেউ অন্যের রোল নম্বর ব্যবহার করে চাকরি নেয়, আবার কেউ ভুল তথ্য প্রদান করে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র লাভ করে। সাম্প্রতিককালে এমনই একটি ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সাজেদা বেগম ভুল তথ্য দিয়ে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন।
২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতক পর্যায়ে ৩০০ নম্বরের বাংলা বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি এবং বিএড। তবে সাজেদা বেগমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এই মানদণ্ড পূরণ করত না। ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে তার শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটি কোথাও ব্যবহার করা হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এনটিআরসিএ বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৮ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১২-এর রোল নম্বর ৩০১০৩০৫৪ ধারী সাজেদা বেগম গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তার ডিগ্রিতে ৩০০ নম্বরের বাংলা বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এনটিআরসিএ জানিয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সাজেদা বেগম ভুল তথ্য দিয়ে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র লাভ করেছিলেন। তদন্তে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
ফলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত) এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী সাজেদা বেগমের শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০১২৮১০০৬৬, সিরিয়াল নম্বর ১০১৪৮৬১২ বাতিল করা হয়েছে।
এনটিআরসিএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বাতিলকৃত প্রত্যয়নপত্র কোথাও ব্যবহার করা হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের চূড়ান্ত দায়িত্ব এনটিআরসিএ-এর। ২০০৫ সালে শুধুমাত্র প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণী সনদ দেখিয়ে আবেদন করা যেত। ২০১৫ সাল থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি এনটিআরসিএ-এর হাতে এসেছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর পেতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট মিস না করতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন চাপুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র কী?
শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র হল একটি সরকার অনুমোদিত সনদ, যা প্রমাণ করে যে একজন প্রার্থী শিক্ষক পদে যোগ্য।
বাতিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করলে কি হবে?
বাতিলকৃত প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে।
সাজেদা বেগমের অবৈধতা কী ধরনের?
সাজেদা বেগম তার শিক্ষাগত যোগ্যতা পূর্ণ না করেও ভুল তথ্য প্রদান করে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র লাভ করেছেন।
কোন নিয়ম অনুযায়ী তার প্রত্যয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে?
‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত)’ এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী তার প্রত্যয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
৮ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১২-এ শিক্ষাগত যোগ্যতার মান কী ছিল?
সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদের জন্য প্রার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে ৩০০ নম্বরের বাংলা বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি এবং বিএড থাকতে হবে।
সাজেদা বেগমের শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন যথেষ্ট ছিল না?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার ডিগ্রিতে ৩০০ নম্বরের বাংলা বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না, যা বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয়।
শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এনটিআরসিএ-এর ভূমিকা কী?
এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীর বাছাই ও সুপারিশের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
উপসংহার
সাজেদা বেগমের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রদান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা জাল সনদ ব্যবহার করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর শাস্তি আইন অনুযায়ী দেওয়া হয়। এনটিআরসিএ-এর কঠোর নজরদারির ফলে এ ধরনের অনিয়ম প্রকাশ পায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
