শিক্ষার একমাত্র দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম দৈনিক শিক্ষাডটকম ৭ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘শিক্ষা প্রশাসনে স্থবিরতা’ শিরোনামে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি শীর্ষ পদ খালি থাকায় এবং কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়। একই সময়ে বদলি ও টেন্ডার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে কোনো কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কাজ চলতে থাকে না। দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবা প্রার্থীরা সমস্যায় পড়ে, যা আধুনিক প্রশাসনের মূল ধারণার বিপরীত। বিদেশি প্রশিক্ষণ বা যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে দেশে প্রয়োগ হয় না।
ই-মেইলের আগের যুগে ঢাকা জিপিও উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে লাখো মানুষের সমাগমের মধ্যে সেবা প্রদান প্রায় শূন্য ছিল। বিদেশে এ ধরনের সেবা প্রদানে বিভিন্ন শিফটে কাজ হলেও আমাদের দেশে সেটি অভাব। প্রাইভেট খাতে কিছু সংস্কৃতি চালু হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন না হলে স্থবিরতা অব্যাহত থাকে।
বর্তমানে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রায়ই দেশের বাইরে থাকেন। যেমন, শিক্ষা উপদেষ্টা বিদেশে থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের রুটিন কাজ খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্থগিত রয়েছে। এনসিটিরি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান ৬ নভেম্বর ছুটিতে গেছেন এবং তার পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য বই, কারিকুলাম ও অন্যান্য কার্যক্রমের গতি ধীর হচ্ছে।
একইভাবে, শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্রে একমাসের ছুটিতে থাকায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার প্রতি সরকারের প্রচেষ্টা সীমিত হচ্ছে, এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে পুরো সিস্টেম স্থবির হচ্ছে।
উপসংহারে, দেশের শিক্ষা প্রশাসনে স্থবিরতার মূল কারণ হলো দপ্তরীয় দায়িত্বে স্থায়ী সংস্কৃতির অভাব, শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায়ই অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক সংস্কৃতির আধুনিকীকরণে উদাসীনতা। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতির দিকে এগোতে পারবে না।
উপসংহার
উপসংহারে, দেশের শিক্ষা প্রশাসনে স্থবিরতা কেবল ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে নয়, বরং দপ্তরীয় দায়িত্বে স্থায়ী সংস্কৃতির অভাব এবং প্রশাসনিক সংস্কৃতির আধুনিকীকরণে উদাসীনতার ফল। শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশের বাইরে থাকলেও, দপ্তরের কাজ চালু রাখতে কোনো ব্যবস্থা নেই। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক, নীতি ও সেবা পৌঁছানোর গতি বাধাগ্রস্ত থাকবে। আধুনিক, কার্যকর ও স্থায়ী প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা না হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতির পথে এগোবে না।
