দেশের ৬৫ হাজার ৫০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই নির্দেশনা আসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-১৪ শাখার সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে, যা মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজ পুরোপুরি একমত নয়। তাদের দাবি, রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এই গ্রেড কার্যকর করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার এটি রায় ঘোষণার তারিখ ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল-আমীন বলেন,
“রায়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ১০ম গ্রেড প্রযোজ্য হবে। কিন্তু সরকার রায় ঘোষণার তারিখ থেকে কার্যকর করছে, যা রায়ের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলো আলোচনায় বসে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১২তম গ্রেডে আছেন।
তবে গ্রেড পরিবর্তন কার্যকর করতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে—
- অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি নিতে হবে।
- বেতন স্কেল নির্ধারণ করবে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ।
- প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
- পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়টি বিদ্যমান নিয়োগবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধন করতে হবে।
এছাড়া প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা সরকারি আদেশ জারি হওয়ার পর ১৬ মাসের মধ্যে “Basic Training for Primary Teachers” কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি আদেশের একটি কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
১০ম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি কবে থেকে কার্যকর হবে?
সরকার এই পদোন্নতি রায় ঘোষণার তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে কার্যকর করছে। তবে শিক্ষকরা দাবি করেছেন এটি ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া উচিত ছিল।
কতজন প্রধান শিক্ষক এই পদোন্নতি পাচ্ছেন?
মোট ৬৫,৫০২ জন প্রধান শিক্ষক এই পদোন্নতির আওতাভুক্ত।
প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের জন্য কোনো অতিরিক্ত শর্ত আছে কি?
হ্যাঁ, সরকারি আদেশ জারি হওয়ার ১৬ মাসের মধ্যে “Basic Training for Primary Teachers” কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
প্রধান শিক্ষকের বেতন ও ভাতায় কেমন পরিবর্তন হবে?
প্রধান শিক্ষকেরা এখন ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাবেন। এতে তাদের পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষকরা কি এই পদোন্নতির সঙ্গে একমত?
অনেক শিক্ষক এই পদোন্নতির সাথে একমত নন। তারা দাবি করেছেন ২০১৪ সালের রায়ের তারিখ থেকে পদোন্নতি দেওয়া উচিত।
প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কী?
প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সরকারি আদেশের একটি কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
এই পদোন্নতি কি সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য প্রযোজ্য?
হ্যাঁ, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই পদোন্নতির আওতায় আসবেন।
উপসংহার
দেশের ৬৫ হাজার ৫০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেডে পদোন্নতির অধিকারী হচ্ছেন, যা তাদের বেতন, ভাতা ও পদমর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদিও কিছু শিক্ষক ২০১৪ সালের রায় অনুযায়ী পদোন্নতি চেয়েছিলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি রায় ঘোষণার তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে কার্যকর হবে।
