প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়তে অধিদপ্তরাধীন অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সতর্কবার্তা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বুধবার (৮ অক্টোবর) মাউশির সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে—বিভিন্ন প্রতারক চক্র হোয়াটসঅ্যাপে অন্যের ছবি ও নাম ব্যবহার করছে, আবার কেউ কেউ ফেসবুক বা মেসেঞ্জার হ্যাক করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ দাবি করছে। এছাড়া মোবাইলে ফোন করে বিকাশ, এটিএম কার্ড বা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং ওটিপি বা পিন কোড নেওয়ার ফাঁদ পেতেছে।
এমনকি নানা প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলার পর অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধের ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এই পরিস্থিতিতে, মাউশি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতারক চক্র ও অপহরণকারীদের থেকে অধিক সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ’s)
মাউশির সতর্কবার্তাটি কেন জারি করা হয়েছে?
সম্প্রতি প্রতারক চক্রের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে মাউশি এই সতর্কবার্তা জারি করেছে।
কারা এই সতর্কবার্তার আওতায় পড়ছে?
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর অধীনস্থ অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রতারক চক্র কীভাবে প্রতারণা করছে?
তারা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও মেসেঞ্জার হ্যাক করে অন্যের ছবি ও নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করছে। এছাড়া ফোনে বিকাশ বা এটিএম তথ্য চেয়ে ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
এই প্রতারণাগুলোর উদ্দেশ্য কী?
মূলত ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া এবং কখনও কখনও প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা।
মাউশি কর্মকর্তাদের কী পরামর্শ দিয়েছে?
সব ধরনের অচেনা ফোনকল, বার্তা বা অনলাইন লিঙ্ক থেকে সতর্ক থাকতে এবং ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য কাউকে না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদি কেউ প্রতারণার শিকার হন, কী করা উচিত?
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা, সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
এই সতর্কবার্তাটি কবে প্রকাশিত হয়েছে?
বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মাউশির সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেনের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়।
উপসংহার
প্রতারক চক্র এখন নানা কৌশলে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে—সোশ্যাল মিডিয়া, ফোনকল কিংবা অনলাইন মাধ্যমে। এ অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর সতর্কবার্তাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবারই উচিত অচেনা কল, মেসেজ বা লিঙ্কে সাড়া না দেওয়া এবং কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য প্রকাশ না করা। সচেতন থাকলেই এই ধরনের প্রতারণা রোধ সম্ভব, আর নিরাপদ থাকবে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জীবনের সুরক্ষা।
