সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি পে-কমিশনে এই প্রস্তাব জমা দেন। আজ কমিশনের সঙ্গে সমিতির নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবে ‘সাকুল্য বেতন’ বা ‘পারিশ্রমিক কাঠামো’ প্রবর্তনের কথাও বলা হয়েছে, যেখানে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত কোনো ভাতা বা সুবিধা থাকবে না।
বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে সম্মানি বা ভাতা পান, তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতি বছর এ সুবিধায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। পে-কমিশনের কাছে এই ভাতা বাতিলের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে। বাস্তবায়ন সম্ভবত আগামী বছরের শুরুতে হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর মূল দিকসমূহের মধ্যে রয়েছে দুই প্রস্তাব: বিদ্যমান বেতন কাঠামো বজায় রেখে নতুন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন এবং বিদ্যমান কাঠামো বাতিল করে সাকুল্য বেতন কাঠামো প্রবর্তন। প্রস্তাবে সচিবালয়ে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তার জন্য সচিবালয় ভাতা এবং রেশন সুবিধা চালুর কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে বেতন স্কেলের অপ্রয়োজনীয় গ্রেড বাদ দিয়ে মোট ১২টি গ্রেড নির্ধারণের রূপরেখা রয়েছে। এতে উচ্চ ও নিম্ন বেতন সমান হারে বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন পদও একত্রিত করা যাবে, যেমন অফিস সহায়ক, মেসেঞ্জার, দপ্তরি, ফটোকপিয়ার, কম্পিউটার অপারেটর, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ইত্যাদি।
টিফিন ও যাতায়াত ভাতা বাড়ানো হয়েছে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাবাবদ ভাতা প্রতি সন্তানের জন্য প্রাথমিক স্তরে ২,০০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪,০০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ৬,০০০ টাকা এবং স্নাতকে ৮,০০০ টাকা দেওয়া হবে। চিকিৎসা বাবদ ভাতা বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৪০ বছরের কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা, ৪০–৫০ বছরে ৭,০০০ টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মচারীরা মূল বেতনের ৮০% হিসেবে নববর্ষ ভাতা পাবেন, যা বর্তমান ২০% থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা চালু, কর-ভিত্তিক পেনশন এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুবিধাসম্পন্ন হবে। পে-কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এটি বাস্তবায়িত হবে।
শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য আমাদের দৈনিক বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকন চাপুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
নতুন প্রস্তাবিত পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন কত?
সর্বোচ্চ বেতন প্রস্তাবে ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে?
পে-কমিশনের সুপারিশ ও গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে। আনুমানিকভাবে আগামী বছরের শুরুতে বাস্তবায়ন সম্ভাব্য।
নতুন পে স্কেলে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে কি?
প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিদ্যমান ভাতা বাতিল করা হয়েছে। তবে সচিবালয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য সচিবালয় ভাতা এবং রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
টিফিন এবং যাতায়াত ভাতা কত বৃদ্ধি পাবে?
টিফিন ভাতা ২০০ → ৩,০০০ টাকা, এবং যাতায়াত ভাতা ৩০০ → ৪,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নববর্ষ ভাতা কতো শতাংশ বেতন হিসেবে দেওয়া হবে?
নতুন প্রস্তাবে নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ৮০% হিসেবে দেওয়া হবে, যা বর্তমানের ২০% থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতিরিক্ত কাজের জন্য কি পারিশ্রমিক থাকবে?
হ্যাঁ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে।
উপসংহার
নতুন প্রস্তাবিত পে স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং উন্নত সুবিধাসম্পন্ন একটি কাঠামো প্রদান করবে। সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রেরণা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, টিফিন, যাতায়াত, শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের সুবিধা কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
