এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। তবে যদি না দাঁড়ান এবং আবরার সাহেবদের সহযোগিতা করেন বা আমাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, তাহলে পরিবেশ ঘোলাটে হবে। পরিবেশ যদি ঘোলাটে হয়, নির্বাচন পিছিয়ে যাবে এবং আবরার সাহেবরা জিতবে। এর জন্য আপনাদের পস্তাতে হবে। ভালোভাবে চিন্তা করুন, আমরা নিরিহ শিক্ষক।”

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, “প্রায় সব রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। বাকি দুই দল আছে, যার মধ্যে বিএনপি একটি বিবৃতি দিয়েছে। আমরা চাই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হোক। নির্বাচনে শিক্ষক সমাজ বড় স্টেকহোল্ডার। আমাদের ৬ লাখের বেশি শিক্ষক প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষকেরা নির্বাচনের জন্য অনেক ত্যাগ ও জীবন দিয়েছেন। আমাদের কর্মসূচি এখনো চলমান, যমুনা লং মার্চের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে।”
শনিবার দুপুরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল করেছেন। এ সময় তারা শিক্ষা উপদেষ্টাকে নিয়ে “সি আর আবরার, আর নেই দরকার” শ্লোগান দেন। শিক্ষকরা জানান, দেশের মন্ত্রী ও আমলাদের বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়, কিন্তু তারা ন্যায্য ভাড়া পাচ্ছেন না। গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা রাস্তায় দাবির সংবাদ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
অবরোধ ও লং মার্চ কর্মসূচি:
- গত রোববার থেকে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবরোধ শুরু করেন।
- পুলিশ বাধার কারণে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।
- মঙ্গলবার সচিবালয় অভিমুখী লং মার্চে বাধা পেয়েছেন, বুধবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।
- বৃহস্পতিবার যমুনা পর্যন্ত মার্চ স্থগিত রাখা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৫% (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দিলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা দাবি করছেন ২০% বাড়িভাড়া দিতে হবে।
আজিজী বলেন, “আমাদের দাবি একটাই, ২০% বাড়িভাড়া দেওয়া হবে। শিক্ষকেরা অন্য কোনো প্রস্তাবে রাজি নন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন ও আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
শিক্ষাসহ সব খবর জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকন ক্লিক করুন।
সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
আজিজী কোন মন্তব্য করেছেন নির্বাচনের বিষয়ে?
আজিজী বলেছেন, যদি নির্বাচন পিছিয়ে যায়, তাহলে আবরার সাহেবরা জিততে পারে এবং এতে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হবে।
নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কী হতে পারে?
তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না থাকা বা উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিবেশকে ঘোলাটে করতে পারে, যা নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে।
আজিজী কী ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন?
তিনি বলেন, নির্বাচন পিছিয়ে গেলে আবরার সাহেবরা জিতবে এবং এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলো পরে পস্তাতে পারে।
কোন রাজনৈতিক দলগুলো আজিজীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে?
আজিজী জানিয়েছেন, প্রায় সব রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে জোটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, বাকি দুই দলের মধ্যে বিএনপি একটি বিবৃতি দিয়েছে।
শিক্ষক সমাজ নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখে?
আজিজীর মতে, শিক্ষকরা নির্বাচনের বড় স্টেকহোল্ডার এবং প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কতজন শিক্ষক এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত?
প্রায় ৬ লাখের বেশি শিক্ষক এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষকেরা কেন আন্দোলন করছেন?
শিক্ষকেরা ন্যায্য বাড়িভাড়া (২০%) ও অন্যান্য দাবির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপসংহার
আজিজীর মন্তব্য এবং শিক্ষক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট যে, নির্বাচনের সময়সূচি ও রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দাবি মেনে চলা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করতে হবে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে।
