সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা পরিচালনার জন্য ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি, পরিচালনা ও জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ গেজেট প্রকাশ করেছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সাবেক সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই গেজেট বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজিপ্রেস) দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
নীতিমালার মূল বিষয়বস্তু:
- মাদরাসা স্থাপনের জন্য এলাকাভিত্তিক দূরত্ব, জমির পরিমাণ এবং ব্যক্তি নামকরণের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পাঠদানের অনুমতির ক্ষেত্রে মাদরাসার ভবন, তহবিল এবং পাঠাগার সংক্রান্ত শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়েছে।
- শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিওভুক্তির শর্তাবলী:
- প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড দ্বারা হালনাগাদ স্বীকৃতি থাকতে হবে।
- নীতিমালার পরিশিষ্ট-ক, খ, ও গ অনুযায়ী শর্ত পূরণ করতে হবে।
- জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
- অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি থাকতে হবে। ট্রাস্ট বা সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে আবেদন করতে হবে।
- এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অনুদানভুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে শর্তপূরণ কোনো প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। সরকারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
রিডও: আরো ৫৪৭ শিক্ষক এমপিওভুক্ত তালিকায় যুক্ত
রিডও: ৪০ দিনে মাদরাসা এমপিওকরণ ফাইল কেন সই হয়নি?
হোম পেজে যান: dainikshiksha
মাদরাসা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া:
- নীতিমালায় উল্লেখিত শর্ত পূরণ করলে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা বা ট্রাস্ট স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন করতে পারবে।
- অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা চালু করা যাবে না।
- আবেদনপত্রে ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প লাগবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- আবেদনকারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
- প্রস্তাবিত স্থানের মৌজা, খতিয়ান-পর্চা, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রদত্ত দূরত্ব সনদ এবং উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার জনসংখ্যা সনদ।
- ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠা করলে তার বিস্তারিত পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
- সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ হাজার টাকা, শহর-পৌর এলাকায় ৩ হাজার টাকা এবং মফস্বল এলাকায় ২ হাজার টাকা ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদানের রশিদ।
এই নীতিমালা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
নতুন এমপিও নীতিমালা কখন প্রকাশিত হয়েছে?
নতুন ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি, পরিচালনা ও জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ গেজেট ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সাবেক সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে।
নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য কী?
নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা নিশ্চিত করা, এবং এমপিওভুক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী নির্ধারণ করা।
মাদরাসা স্থাপনের জন্য কি কি শর্ত পূরণ করতে হবে?
মাদরাসা স্থাপনের জন্য এলাকাভিত্তিক দূরত্ব, জমির পরিমাণ, ভবন, পাঠাগার এবং তহবিল সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে হবে এবং অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।
ট্রাস্ট বা সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা এমপিওভুক্তির জন্য কী করতে হবে?
প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে ট্রাস্টের অনুমোদনসহ আবেদন জমা দিতে হবে।
অনুমোদন ব্যতীত মাদরাসা স্থাপন করা যাবে কি?
না, অনুমোদন ব্যতীত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন বা চালু করা যাবে না।
এমপিওভুক্তি নিশ্চিত কি সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেবে?
না, শর্তপূরণ কোনো প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। সরকার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
উপসংহার
নতুন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিও নীতিমালা, ২০২৫ স্বতন্ত্র মাদরাসাগুলোর স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্মত পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করছে। এটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, পাঠদান, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং এমপিওভুক্তির জন্য স্পষ্ট শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে। নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করতে, ন্যায্য নিয়োগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করতে সহায়তা করা হবে।
