নেত্রকোনায় ধারের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (২২) নামের এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার কাইলাটী গ্রামের মো. উসমান আলীর ছেলে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কাইলাটী গ্রামে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত জাহাঙ্গীরের বড় ভাই আলমগীর চল্লিশাকান্দা বাজারে মুদি দোকান চালান। তার কাছ থেকে চার হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন পাশের গ্রামের রনি ও তরিকুল। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় আলমগীর টাকা চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। শুক্রবার রাতে আবারও টাকা চাইতে গেলে আলমগীরের ওপর হামলা চালায় রনি ও তরিকুল।
চিৎকার শুনে ছোট ভাই জাহাঙ্গীর এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা আলমগীরকে ফেলে রেখে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা উসমান আলী অভিযোগ করে বলেন, “ধারের টাকা চাইতে গিয়ে আমার বড় ছেলের ওপর হামলা চালায় রনি ও তরিকুলসহ ৮-১০ জন। ছোট ছেলে বাঁচাতে গেলে তাকেও পিটিয়ে ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। মৃত্যুর পর নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়। যাওয়ার সময় আমাদের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, ধারের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়, যেখানে এক ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ’s)
ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
ঘটনাটি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটী গ্রামে ঘটেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম কী?
নিহত কলেজশিক্ষার্থীর নাম মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (২২)।
তিনি কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?
তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হামলার মূল কারণ কী ছিল?
ধারের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কত টাকা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল?
প্রায় চার হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
হামলায় কারা জড়িত ছিল?
স্থানীয় সূত্র মতে, পাশের গ্রামের রনি ও তরিকুলসহ কয়েকজন এই হামলায় জড়িত ছিল।
নিহতকে কোথায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল?
প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
উপসংহার
“ধারের টাকা চাইতে গিয়ে কলেজশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা” ঘটনাটি আমাদের সমাজের একটি করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে। মাত্র কয়েক হাজার টাকার কারণে এক তরুণ শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হলো, যা মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। পরিবার হারালো তাদের মেধাবী সন্তানকে এবং সমাজ পেলো নতুন এক শোকাবহ অভিজ্ঞতা।
