সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে টানা ২২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। আজ সোমবার তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন মাদরাসাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং জাতীয়করণ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে জাতীয়করণের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষকরা। তবে পুলিশের বাধায় লং মার্চটি শুরুতেই পণ্ড হয়ে যায়। বেলা ২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে লং মার্চ শুরু হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে শত শত শিক্ষক রাস্তায় বসে পড়েন। এতে পল্টন থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত সড়ক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষকরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হন। তারা স্লোগান দেন—
‘এমন কোনো দেশ নাই, চাকরি আছে বেতন নাই’,
‘ইবতেদায়ি শিক্ষক, হয়েছে কেন ভিক্ষুক?’,
‘অবহেলার ৪০ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর’,
‘বৈষম্য নিপাত যাক, জাতীয়করণ মুক্তি পাক’,
‘এক দফা এক দাবি, জাতীয়করণ করতে হবে’।
লং মার্চ শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক, তাই দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা উচিত। তারা আরও বলেন, টানা ২১ দিন ধরে শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে—এটি কারও কাম্য নয়। সরকার যদি দ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়ন না করে, তবে দেশের লাখো ইবতেদায়ি শিক্ষক আরও বঞ্চিত হবেন।
শিক্ষকরা জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রতিহিংসার কারণে তাদের জাতীয়করণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ঘোষণার নয় মাস পার হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ধাপে ধাপে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তারা পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমানে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসংহার
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের এই আন্দোলন শুধু চাকরির বিষয় নয়—এটি ন্যায্য অধিকার ও সম্মানের দাবি। টানা আন্দোলনের ২২তম দিনে এসে তারা যে দৃঢ়তা ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা, যাতে শিক্ষকেরা তাদের দায়িত্বে ফিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন। সময় এসেছে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার।
