ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক শিক্ষার্থীরা হল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে রাতভর ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে সরাসরি ভিসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী বলেন, “দরজা খুলুন স্যার, আমরা আপনার বাড়ির সামনে আছি, অনেক ঠান্ডা লাগছে।” একজন শিক্ষার্থী আরও বলেন, “স্যার ডাকলে খুলবে না, আব্বু ডাকো।”
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে হঠাৎ ১৫ দিনের জন্য হল বন্ধ ঘোষণার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের গেটে নক করেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ভিসি যেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের দৃশ্যমান সমাধান দেখান।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “স্যার আপনি আমাদের বাবা। শুরু থেকেই বলেছেন যে যেকোনো দরকারে গেট খোলা থাকবে। আমাদের বাইরে খুব ঠান্ডা লাগছে, মশা কামড়াচ্ছে, পরে ডেঙ্গু ঝুঁকি রয়েছে। স্যার, অনুগ্রহ করে গেট খুলুন।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ডাকসু নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছে না এবং এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষ কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি:
- বাধ্যতামূলক হল বন্ধ ঘোষণা স্থগিত করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের দৃশ্যমান সমাধান দেখানো।
- স্বাধীনতা টাওয়ারসহ ঝুঁকিপূর্ণ হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, যতদিন নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন না হয়।
- উপরোক্ত দুই দফা মেনে চলার পর হলে বন্ধ ঘোষণা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের কোয়ার্টারসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা।
এর আগে, ভূমিকম্পজনিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৩ নভেম্বর) থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাবি বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার সময়সীমা আগামী রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঢাবির সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার পাশাপাশি আবাসিক হলগুলো খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল বন্ধ ঘোষণার বিরুদ্ধে তাদের নিরাপদ আবাসনের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করেছেন। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া শিক্ষার্থীরা হল বন্ধ ঘোষণা মেনে নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিসি-ছাত্র সম্পর্কের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
