সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতো নেতৃত্ব চায়। তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের জাতীয়করণ, বেতন বা ভাতা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার শিক্ষায়।”
শনিবার এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) এর আয়োজনে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “সোসিও ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ থ্রো টিভ্যাট: প্রবলেমস এন্ড প্রসপেক্টস” সেমিনারে এ মন্তব্য করেন ড. মিলন। তিনি এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, যিনি বলেন, “দেশের উন্নয়নে জনগণকে সম্পৃক্ত না করলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানে লাগাতে হবে। বিএনপি এক কোটি যুবককে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দিয়ে কর্মসংস্থানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।”
ড. মিলন আরও বলেন, “আমি যখন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ছিলাম, তখন তারেক রহমান দায়িত্বে না থাকলেও তিনি সবসময় নির্দেশ দিতেন কীভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা যায়। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখবেন।”
সেমিনারে আরও বক্তৃতা দেন:
- সেলিম ভূইয়া: তরুণদেরকে কর্মমুখী শিক্ষায় আগ্রহী হতে হবে।
- ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ: শিক্ষা ও বাস্তবতার ফারাক দূর করতে সিলেবাস নতুনভাবে সাজাতে হবে।
- ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামসুন্নাহার: কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দেশ-বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী সাজাতে হবে।
- ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার: শিক্ষা কর্মসংস্থানমুখী হতে হবে; বাজেট বৃদ্ধি ও প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন জরুরি।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের ২০% যুবক বিশ্ববিদ্যালয় সমাপ্ত, কিন্তু মাত্র ১৬.৮% কর্মসংস্থানে সফল। বিদেশের উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে: জার্মানিতে ৬০% শিক্ষার্থী ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণ করে কাজের বাজারে প্রবেশ করে; মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে যুবকদের স্কিল-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে এখনও কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা যথেষ্ট এগোয়নি। তাই বিএনপি এই খাতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন:
ড. জুলহাস উদ্দিন (বুটেক্স), ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া, ড. মুহাম্মদ আবদুল আজীজ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি।
প্রস্তাবিত সুপারিশমালা:
- কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ
- একক অথরিটির মাধ্যমে দক্ষতা শাসন ব্যবস্থা
- কলকারখানার চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা
- দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল গঠন
- ডিজিটাল ও সবুজ অর্থনীতিতে গুরুত্ব
- নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় সমানভাবে সম্পৃক্তকরণ
শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কে?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশে সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী।
বিএনপি শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন অগ্রাধিকার দেয়?
বিএনপি শিক্ষাকে প্রধান অগ্রাধিকার দেয় এবং জাতীয় শিক্ষার মান, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নীতি প্রণয়ন করে।
তারেক রহমান শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও কর্মমুখী শিক্ষার জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা দেশের যুব সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষকদের জন্য বিএনপির নীতি কী?
শিক্ষকরা জাতীয়করণ, বেতন ও ভাতা নিয়ে চিন্তিত হবেন না; বিএনপি তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে।
কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার গুরুত্ব কী?
কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা যুবকদের কর্মসংস্থানে প্রবেশ সহজ করে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের যুবকদের বর্তমান শিক্ষাগত সমস্যা কী?
দেশের ২০% বিশ্ববিদ্যালয় সমাপ্ত যুবক আছে, কিন্তু মাত্র ১৬.৮% কর্মসংস্থানে সক্ষম, যা যুব সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিদেশের উদাহরণ থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায়?
জার্মানি, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যুবকদের ভোকেশনাল শিক্ষা এবং স্কিল প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়।
উপসংহার
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য স্পষ্ট করে যে শিক্ষা বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। বিএনপি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি প্রণয়ন করছে, যা শুধুমাত্র পাঠ্যক্রম বা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, বরং কর্মসংস্থানমুখী, দক্ষ এবং উদ্ভাবনী যুব সমাজ গড়ে তোলার প্রতি লক্ষ্য রাখে। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার, শিক্ষকের উন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধি এবং নারীদের শিক্ষায় সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি—all মিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
