সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে ইসলামিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রকে দুর্নীতির ধস থেকে উদ্ধারে ইসলামিক শিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। আগামী দিনে যদি দায়িত্ব পাই, তাহলে ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে আর কোনো দাবি-দাওয়া করতে হবে না।”
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে “শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সর্বস্তরে ইসলামিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ ফোরাম এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মুহাম্মদ নূরুল হক, কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আ. ব. ম. ছিদ্দিকুর রহমান আশরাফী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, আর সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)-এর মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজীজ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. শাহ মুহাম্মাদ আবদুর রাহীম এবং ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক উপাধ্যক্ষ মো. আবদুর রহমান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয় ঘটেছে, এখন সেই জায়গাটিতে মনোযোগ দিতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার জরুরি। উচ্চশিক্ষায় যোগ্য ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, কারণ কোয়ালিটি টিচারের ঘাটতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শিক্ষাখাতে ন্যূনতম জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তী সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
শিক্ষা ও ইসলামিক শিক্ষাসংক্রান্ত আরও খবর সবার আগে পেতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। ভিডিওগুলো মিস না করতে বেল আইকন ক্লিক করুন, যাতে নতুন আপডেটের নোটিফিকেশন সরাসরি আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে পৌঁছে যায়।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ’s)
এহছানুল মিলন কে?
ড. এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশের সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তিনি শিক্ষা সংস্কার ও ইসলামিক শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
ড. মিলনের মতে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের মূল উপায় কী?
তার মতে, ইসলামিক শিক্ষা ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে ইসলামিক শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলামিক শিক্ষা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি?
তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলামিক শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে এবং নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ড. মিলন কোন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন?
তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন, যার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ ফোরাম ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় কী ছিল?
মূল আলোচ্য বিষয় ছিল “শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সর্বস্তরে ইসলামিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।”
প্রধান আলোচক ও উপস্থিত অতিথিরা কারা ছিলেন?
প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শামছুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিন ও অধ্যাপকবৃন্দ।
মিলন ভবিষ্যৎ শিক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে কী বলেছেন?
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি দায়িত্ব পান, তাহলে ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে আর কোনো দাবি-দাওয়া করতে হবে না, কারণ এটি হবে শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ।
উপসংহার
ড. এহছানুল মিলনের বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামিক শিক্ষার বিকল্প নেই। শুধু নৈতিক শিক্ষার পুনরুত্থানই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, এবং যথাযথ বাজেট বরাদ্দও অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামিক শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।
