ঢাকার অদূরে সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা পৃথক দুই মামলায় একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিটি ইউনিভার্সিটির দায়ের করা মামলা
সিটি ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মীর আকতার হোসেন মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা, শিক্ষার্থীদের মারধর, ভাঙচুর, চুরি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক ছাত্রের থুতু ফেলার সময় তা ড্যাফোডিলের ফাহাদ নামের একজনের পায়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া শুরু হয়।
পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ফাহাদসহ প্রায় এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দুষ্কৃতকারী অস্ত্র নিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির মূল ফটকে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা পেট্রলবোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ, ৫টি বাস, ৩টি মাইক্রোবাস, ১টি প্রাইভেটকার ও ২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রশাসনিক ভবনেও ভাঙচুর ও লুটপাট হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকা চুরি হয়।
মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার আগে ড্রোন ব্যবহার করে সিটি ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা ও ভবনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এই হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির দায়ের করা মামলা
অন্যদিকে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ খান রাত পৌনে একটার দিকে আরেকটি মামলা করেন।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ড্যাফোডিলের ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ হোস্টেলে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর ড্যাফোডিলের ১১ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে আটক রাখা হয়, তাঁদের ওপর অস্ত্রের মুখে নির্যাতন ও জোরপূর্বক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।
হামলার পর সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো দৃশ্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি করে ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়।
থানার মন্তব্য
সাভার মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি উভয়ই পৃথক মামলা করেছে।
সিটি ইউনিভার্সিটির মামলায় ১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১,০০০ জনকে, আর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উপসংহার
সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। উভয় মামলায় শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আহতের অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনাটি এখন আইনি তদন্তের আওতায়, এবং প্রশাসন বলছে—অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
