জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের পরীক্ষা পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি কোর্সের মোট নম্বরের ৮০ শতাংশ থাকবে ফাইনাল পরীক্ষায় এবং ২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের লেকচার ও ব্যবহারিক ক্লাসে অন্তত ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখ করতে হবে।
এই তথ্যগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জারি করা সংশোধিত রেগুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। রেগুলেশনটি গত রোববার অনুমোদন এবং সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তত্ত্বীয় কোর্সের প্রশ্নপত্রের ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর বিভাজন
- ৪ ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৫ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতিতে ৫ নম্বর, ইন-কোর্স পরীক্ষায় ১০ নম্বর — মোট ২০ নম্বর।
- ৩ ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজে ৪ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতিতে ৩ নম্বর, ইন-কোর্স পরীক্ষায় ৮ নম্বর — মোট ১৫ নম্বর।
- ২ ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজে ৩ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতিতে ২ নম্বর, ইন-কোর্স পরীক্ষায় ৫ নম্বর — মোট ১০ নম্বর।
প্রশ্ন কাঠামো ও সময়সীমা
- ৪ ক্রেডিট কোর্স: ১২টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টি উত্তর দিতে হবে, মোট নম্বর ৮০, সময় ৪ ঘণ্টা।
- ৩ ক্রেডিট কোর্স: ৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টি উত্তর দিতে হবে, মোট নম্বর ৬০, সময় ৩ ঘণ্টা।
- ২ ক্রেডিট কোর্স: ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টি উত্তর দিতে হবে, মোট নম্বর ৪০, সময় ২ ঘণ্টা।
প্রয়োজনে প্রতিটি প্রশ্নে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্ন (ক, খ, গ বা a, b, c) রাখা যাবে।
ব্যবহারিক কোর্সের মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এই সংশোধিত রেগুলেশন অনুমোদন দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস।
উপসংহার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের এই সংশোধিত পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতি গুরুত্ব বাড়াবে। নতুন কাঠামো শুধু পরীক্ষার মান উন্নত করবে না, বরং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও ক্লাসে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও গুণগত মান নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।
