জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনার্স ৪র্থ বর্ষের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ ও নম্বর পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনহীন বহিঃপরীক্ষকের মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষার নম্বরপত্র গ্রহণ করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত থাকবে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলেজগুলোকে ইএমএসে লগইন করে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার বহিঃপরীক্ষক নির্ধারণ, শিক্ষার্থীর হাজিরাপত্র, ব্ল্যাংক নম্বরপত্র এবং পরীক্ষার্থীর তালিকা ডাউনলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। বহিঃপরীক্ষক ও আন্তঃপরীক্ষক পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি যাচাই করে হাজিরাপত্র ও নম্বরপত্র পূরণ করবেন। তালিকায় নাম না থাকা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত ৪% কর্তনের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
পরীক্ষা শেষে কলেজগুলোকে ইএমএস সফটওয়্যারে নির্ধারিত কোর্স কোড অনুযায়ী ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর এন্ট্রি দিতে হবে। নম্বর পাঠানোর আগে তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক, কারণ একবার সার্ভারে পাঠানো হলে কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবহারিক পরীক্ষার বিল এন্ট্রির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে পরীক্ষকদের তথ্য সংযোজন ও নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর বিল এন্ট্রির লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিল এন্ট্রি সম্ভব।
শিক্ষা ও অন্যান্য খবর সবার আগে জানতে, আমাদের দৈনিক বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন চাপুন। এতে আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে নোটিফিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন (FAQ’s)
কেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল স্থগিত হতে পারে?
ফল স্থগিতের প্রধান কারণ হলো পরীক্ষার সময় নির্ধারিত নিয়ম বা নির্দেশনা না মানা, যেমন অনুমোদনহীন বহিঃপরীক্ষক ব্যবহার করা।
কোন নিয়ম ভঙ্গ করলে ফল স্থগিত হবে?
বহিঃপরীক্ষক ও আন্তঃপরীক্ষকের মাধ্যমে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা সঠিকভাবে গ্রহণ না করা, হাজিরাপত্র সঠিকভাবে পূরণ না করা, বা নম্বরপত্র ভুলভাবে পাঠানো হলে ফল স্থগিত হতে পারে।
অনুমোদনহীন বহিঃপরীক্ষক ব্যবহার করলে কি হবে?
এ ধরনের পরীক্ষার নম্বরপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না, এবং শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত থাকবে।
পরীক্ষার ফল স্থগিত থাকলে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে?
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত তথ্য যাচাই ও সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, তবে একবার সার্ভারে নম্বর পাঠানো হলে সংশোধনের সুযোগ সীমিত।
ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য কি বিশেষ নির্দেশনা আছে?
হ্যাঁ, কলেজগুলোকে ইএমএস সফটওয়্যারে লগইন করে বহিঃপরীক্ষক নির্ধারণ, হাজিরাপত্র পূরণ, নম্বরপত্র এন্ট্রি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
তালিকায় নাম না থাকা শিক্ষার্থী কি পরীক্ষা দিতে পারবে?
না, তালিকায় নাম না থাকা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, এবং এটি ফল স্থগিত হওয়ার কারণ হতে পারে।
নম্বর পাঠানোর আগে কি করতে হবে?
নম্বর পাঠানোর আগে তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য পাঠালে ফল স্থগিত হতে পারে।
উপসংহার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল স্থগিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো পরীক্ষার সময় নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করা। কলেজ এবং শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সঠিকভাবে বহিঃপরীক্ষক নির্ধারণ, হাজিরাপত্র পূরণ এবং নম্বর এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে। অনুমোদনহীন বহিঃপরীক্ষক ব্যবহার বা ভুল তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ফল স্থগিত থাকা স্বাভাবিক। তাই সকল শিক্ষার্থী ও কলেজকে নিয়মকানুন মেনে চলা এবং তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম মেনে চললে ফল প্রকাশ দ্রুত এবং সঠিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।
