জাতীয়করণ প্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি মানা না হলে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস কর্ম বিরতিসহ একগুচ্ছ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া, ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এই ঘোষণা দেন। বৈঠকে শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি পূরণের আশ্বাস প্রদান করা হলেও জাতীয়করণ দাবি এখনও মুলতুবি রয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশের সব এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধদিবস এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্ম বিরতি পালন করা হবে। জনমত গঠনের জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
শিক্ষকেরা আরও জানাচ্ছেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ দিনের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িভাড়া, মেডিক্যাল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যদিও উৎসের ভাতা ২৫ থেকে ৫০ ভাগে উন্নীত করা হয়েছে, সরকারি নিয়মে ভাতা প্রদানের প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হলে এবং জাতীয়করণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে পরিকল্পিত কর্মসূচি পালিত হবে। তারা বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া মহাসমাবেশে দেশের ৬৪ জেলা থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিটি বিভাগে ৮ জন করে সমন্বয়ক নিযুক্ত করা হয়েছে। সমাবেশে শিক্ষকরা নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করতে বাস রিজার্ভসহ সকল ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
সাধারণভাবে জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
জাতীয়করণ প্রত্যাশী শিক্ষকদের আলটিমেটাম কী সময়সীমা নির্ধারণ করেছে?
শিক্ষকরা সরকারকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করবেন।
আলটিমেটামের মূল দাবি কী?
প্রধান দাবি হলো মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ। এছাড়া বাড়িভাড়া, মেডিক্যাল ভাতা ও উৎসব ভাতা কার্যকর করার দাবি রয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বরের পর কী ধরনের কর্মসূচি হবে?
সারা দেশের অর্ধদিবস কর্ম বিরতি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্ম বিরতি পালিত হবে।
অবস্থান কর্মসূচি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১২ অক্টোবর থেকে দাবির পূর্ণতা না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালানো হবে।
দেশের কোন জেলা থেকে শিক্ষকরা অংশ নিচ্ছেন?
দেশের ৬৪ জেলা থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রতিটি জেলা ও বিভাগের জন্য সমন্বয়ক নিযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি উদ্যোগে বাড়িভাড়া, মেডিক্যাল ভাতা, উৎসব ভাতা ইত্যাদি প্রদান বা ২৫ থেকে ৫০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি।
কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা সত্য কি?
হ্যাঁ, বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে গাড়ি আটকানো ও বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখোমুখি হয়েছেন। শিক্ষকরা এটি নিন্দনীয় বলছেন।
উপসংহার
জাতীয়করণ প্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারের প্রতি তাদের দাবি জোরদার করতে স্পষ্ট ও সময়নির্দিষ্ট আলটিমেটাম দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারি পদক্ষেপ না নিলে অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস কর্ম বিরতি, এবং ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। এই উদ্যোগ শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।
