চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন চলছে। বুধবার দুপুরে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া এই অনশন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলেছে।
অনশনে শিক্ষার্থীদের দাবি: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২১ ঘণ্টা পার হলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৯ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। গতকাল দুপুরে আটজন এবং দুপুর ৩টার দিকে আরও একজন অনশন শুরু করেন।
অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন:
- ওমর সমুদ্র (বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর),
- ধ্রুব বড়ুয়া (গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক),
- জশদ জাকির (বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জ্যেষ্ঠ সদস্য),
- রাম্রা সাইন মারমা (সাংগঠনিক সম্পাদক),
- আহমেদ মুগ্ধ (রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক),
- নাইম শাহজাহান (দপ্তর সম্পাদক),
- সুমাইয়া শিকদার (নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগ),
- ঈশা দে (বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন সংগঠক),
- সুদর্শন চাকমা (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক)।
ছাত্রদের দাবিসমূহ:
- প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ,
- সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসার নিশ্চয়তা,
- নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা,
- হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা,
- প্রকৃত অপরাধীদের বিচার,
- অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন,
- সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
অনশনরত রাম্রা সাইন মারমা বলেন, “অনশন শুরু হওয়ার ২১ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন সাড়া দেয়নি। আমরা যৌক্তিক সাত দফা দাবি করেছি। প্রক্টরিয়াল বডি দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক গুপ্ত হামলা এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি হেনস্থা ঘটেছে।”
নাইম শাহ জানান, প্রশাসন সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “সাত দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরব না।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ছুটিতে আছেন। সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক মো. কোরবান আলীর ফোন বারবার চেষ্টা করেও ধরা যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন করার চেষ্টা শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাবে না।”
গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে। ৪ সেপ্টেম্বর তারা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং মশাল মিছিলের মাধ্যমে আলটিমেটাম দেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ (FAQ’s)
চবির কোন শিক্ষার্থীরা অনশনে অংশ নিচ্ছেন?
চবির বিভিন্ন বিভাগের ৯ শিক্ষার্থী অনশনে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে বাংলা বিভাগ, মার্কেটিং, এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
অনশন কখন শুরু হয়েছিল?
অনশন বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে শুরু হয়।
অনশন কত দিন চলছে?
এটি দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি কী?
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি রয়েছে, যার মধ্যে নিরাপদ আবাসন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা কোন ব্যানারে আন্দোলন করছেন?
এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে চলছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী?
প্রক্টর ছুটিতে আছেন, সহকারী প্রক্টর দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার মন্তব্য করেছেন যে, একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন করার চেষ্টা শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাবে না।
অনশনে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কত?
এখন পর্যন্ত ৯ জন শিক্ষার্থী অনশনে যুক্ত হয়েছেন।
উপসংহার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের যৌক্তিক দাবির জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ও স্বচ্ছ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে।
