দেশের শিক্ষা প্রশাসনে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বেশ কয়েকটি শীর্ষ পদ খালি থাকায় এবং কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন পাঠ্যবই মুদ্রণ ধীর গতিতে চলছে। তবে একই সঙ্গে বদলি ও টেন্ডার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বিদেশে থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের নিয়মিত তদারকি বন্ধ রয়েছে। তিনি ৯ নভেম্বর দেশে ফেরেন। তার অনুপস্থিতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে রয়েছে। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩১ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী অবসরে চলে যাওয়ায় পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কাকে দেয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাবসহ কিছু অধ্যাপক তদবির চালাচ্ছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালকের পদও শূন্য। কলেজ প্রশাসনের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। নিয়মিত ডিজি না থাকার কারণে দেশজুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ-এর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এক মাসের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি ৩০ নভেম্বর দেশে ফেরবেন। এতে এই দপ্তরের নিয়মিত কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত পদ খালি থাকা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। বছরের এই সময়ে ৩১ কোটি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে ঠিক সময়ে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান শীর্ষ পদগুলোর শূন্যতা শিক্ষাপ্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সৃষ্টি করছে।
উপসংহার
বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনে শীর্ষ পদগুলোর শূন্যতা এবং কর্মকর্তাদের দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ, নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দপ্তরের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনে শীঘ্রই পদায়ন ও দায়িত্ববণ্টন প্রয়োজন। নাহলে বছরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমের ঝুঁকি ও বিভ্রান্তি আরও বাড়বে।
