জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং চাকরির বাজারে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি-ডিআইআইটিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানান।
প্রফেসর আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর সাত থেকে আট লাখ গ্রাজুয়েট বের হয়, কিন্তু অধিকাংশই চাকরির বাজারে টিকে থাকতে পারেনা। এর প্রধান কারণ হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও বিদেশি ভাষায় দক্ষতার অভাব। এজন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক সম্মানে আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে।
তিনি আরও জানান, এটুআই ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহায়তায় আইসিটি কারিকুলাম ও ম্যানুয়াল তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের আইসিটি খাতের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে, এই কারিকুলামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরি দ্রুত পেতে পারে বা উদ্যোক্তা হতে পারে।
কর্মশালার দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক মোছা. সালমা পারভীন, এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যানালিস্ট মো. আফজাল হোসেন সারওয়ার, ডিআইইটির অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান ও কলেজের প্রতিনিধিরা।
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি-ডিআইআইটি, গাজীপুরের মডেল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকার ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কাকরাইলের বাংলাদেশ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটসহ দেশের বিভিন্ন কলেজ ও আইটি প্রতিষ্ঠান কর্মশালায় অংশ নেয়।
শিক্ষা ও চাকরির খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন, বেল বাটন ক্লিক করুন এবং নতুন আপডেট পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ (FAQ’s)
বিজ্ঞান শিক্ষা কেন কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বিজ্ঞান শিক্ষা শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি, সমস্যা সমাধান, এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা শেখায়, যা চাকরির বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে।
ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ কি বলেছেন?
তিনি বলেছেন, চাকরির বাজারে টিকে থাকতে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই।
কেন শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে টিকে থাকতে পারেনা?
বেশিরভাগ গ্রাজুয়েটের তথ্যপ্রযুক্তি ও বিদেশি ভাষার দক্ষতার অভাব থাকার কারণে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যায়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক সম্মানে আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য প্রস্তুত হয়।
নতুন আইসিটি কারিকুলাম কীভাবে সহায়ক হবে?
নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের আইসিটি খাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে সাহায্য করবে।
শিক্ষার্থীরা কারিকুলামের মাধ্যমে কী পেতে পারে?
গ্রাজুয়েট হওয়ার পর তারা দ্রুত চাকরি পেতে পারে বা নিজেরা উদ্যোক্তা হতে পারে।
কারা এই আইসিটি কারিকুলামের উন্নয়নে সহায়তা করছে?
এটুআই এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহায়তায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই কারিকুলাম ও ম্যানুয়াল প্রস্তুত করছে।
কর্মশালায় কে কে অংশ নিয়েছে?
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি-ডিআইআইটি, বিভিন্ন কলেজ ও আইটি প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছে।
উপসংহার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিজ্ঞান শিক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীরা বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও চাকরির বাজারে টিকে থাকতে পারবে না। আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
