বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি-ডিআইআইটি-তে আয়োজিত ‘Evaluating National University’s ICT Curricula for Employment Opportunities and Leveraging Digital Platform to Connect Graduates with the ICT Industry’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ভিসি আমানুল্লাহ জানান, প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭–৮ লাখ গ্রাজুয়েট বের হলেও অনেকে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো আইসিটি ও বিদেশি ভাষায় দক্ষতার অভাব। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন স্নাতক সম্মানে আইসিটি ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক করেছে।
তিনি আরও বলেন, এটুআই ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহায়তায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন আইসিটি কারিকুলাম ও ম্যানুয়্যাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ কারিকুলাম যেন দেশ-বিদেশের আইসিটি খাতের চাহিদা পূরণ করতে পারে, সেজন্য শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
ভিসি আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে অথবা নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারবে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জনগণের প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে এর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
কর্মশালার দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য দেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমানসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিটি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইটি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
কেন কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম?
বিজ্ঞান শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা তৈরি করে, যা চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে কীভাবে চাকরির সুযোগ বাড়ে?
আধুনিক শিল্প ও আইসিটি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি, আর বিজ্ঞান শিক্ষা সেই দক্ষতা অর্জনের পথ তৈরি করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আমানুল্লাহ কেন বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন?
তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও চাকরির বাজারে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞান শিক্ষা কী ভূমিকা রাখে?
বিজ্ঞান শিক্ষা শিক্ষার্থীদের আইসিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, গবেষণা ও উদ্ভাবনী খাতে দক্ষ করে তোলে, যা চাকরি সৃষ্টিতে সহায়ক।
শুধু বিজ্ঞান পড়লেই কি চাকরি পাওয়া সম্ভব?
না, পাশাপাশি আইসিটি দক্ষতা, ইংরেজি জ্ঞান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও জরুরি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্যোগগুলো কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক সম্মানে আইসিটি ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান শিক্ষার ভূমিকা কী?
জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান বিজ্ঞানের মাধ্যমেই সম্ভব।
উপসংহার
কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিজ্ঞান শিক্ষা অপরিহার্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ যেমন আইসিটি ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক করা শিক্ষার্থীদের দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্ভাবনী করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং চাকরির বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে দ্রুত চাকরি পেতে বা উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারবে। তাই, ভবিষ্যতের দক্ষ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়তে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া একান্ত জরুরি।
