বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের আশ্বাসে ষষ্ঠ নিয়োগে সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা অবশেষে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ফিরে গেছেন।
প্রার্থীদের দাবি, চেয়ারম্যান তাদের জানিয়েছেন যে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শূন্যপদ যুক্ত করে সকল বঞ্চিত প্রার্থীকে সুপারিশের আওতায় আনা হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানান আন্দোলনরত প্রার্থীরা।
পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, পরে সরিয়ে দেওয়া হয়
এর আগে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মাটিতে শুয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়, পরে পুলিশ তাদের গেটের বাইরে সরিয়ে দেয় এবং প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।
প্রার্থীদের দাবি ছিল,
“বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশ করতে হবে।”
বঞ্চিতদের ক্ষোভ: “৬০ হাজার পদ শূন্য, তবু আমাদের নিয়োগ দেওয়া হলো না”
প্রার্থীরা জানান, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬০ হাজার ৫২১ জনকে চূড়ান্তভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গত ১৯ আগস্ট প্রকাশিত ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফলে লক্ষাধিক শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে সুপারিশ করা হয়।
এর ফলে ১৬ হাজারেরও বেশি প্রার্থী নিয়োগের বাইরে থেকে গেছেন। তাদের অভিযোগ —
“সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার পরও নিয়োগ না পাওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক।”
প্রার্থীরা আরও জানান, বর্তমানে ৬০ হাজারেরও বেশি পদ শূন্য। তাই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিলে শিক্ষক সংকট নিরসন ও শিক্ষার মান উন্নয়ন উভয়ই সম্ভব।
চাকরিপ্রার্থীদের দুই দফা দাবি
১. ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৬ হাজার ২১৩ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে।
২. নীতিমালা পরিবর্তনের আগে বিষয়ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে, প্রাতিষ্ঠানিক বাধা তুলে দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী শূন্য পদ যুক্ত করে সব চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সুপারিশ করতে হবে।
প্রার্থীদের প্রত্যাশা
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএ ১৫ হাজারেরও বেশি প্রার্থী নিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল শিক্ষক সংকট দূর করতে। এবারও একইভাবে ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ঘাটতি কমবে এবং শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা পরিবেশ পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ’s)
কেন ষষ্ঠ নিয়োগে কিছু প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন?
ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে লক্ষাধিক শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ৪১,৬২৭ জনকে সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬,০০০-এর বেশি প্রার্থী বঞ্চিত হন।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান কী আশ্বাস দিয়েছেন?
চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শূন্যপদ যুক্ত করে বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশের আওতায় আনা হবে।
প্রার্থীরা কী ধরনের প্রতিবাদ করেছিলেন?
প্রার্থীরা এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানান। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং গেট আটকে দেয়।
বঞ্চিত প্রার্থীদের মূল দাবি কী?
১. ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ।
২. নীতিমালা পরিবর্তনের আগে বিষয়ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সবাইকে নিয়োগ সুপারিশ।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল কেমন ছিল?
প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬০,৫২১ জনকে চূড়ান্তভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়।
কেন বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন?
বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষক সংকট নিরসনে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে পদ বরাদ্দ কার্যকর।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী প্রভাব পড়ছে?
শূন্যপদ থাকায় শিক্ষক সংকট রয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপসংহার
ষষ্ঠ নিয়োগে বঞ্চিত প্রার্থীদের ফিরে আসা এবং এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের আশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শূন্যপদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল বঞ্চিত প্রার্থীকে সুপারিশের আওতায় আনা হলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটও নিরসন হবে।
